কামরুল ইসলাম
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়ার কারাজীবনের ইতিহাস

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করেন। আপোসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তিনি দেশের রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন।

 

রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট পাঁচবার আটক হন। এর মধ্যে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনবার, ২০০৭ সালে সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একবার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে একবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান তিনি।১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের পর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর এই তিন দফায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এসব ক্ষেত্রে তাকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়নি।

 

২০০৭ সালে রাজনৈতিক সংকটের মুখে সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে সেই সময় দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তাকে ক্যান্টনমেন্টের মইনুল হক রোডের বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জামিন আবেদন নাকচ হলে তাকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে আটক রাখা হয়।

 

এই কারাবাসে তিনি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উভয় উৎসবই জেলখানায় পালন করেন। ঈদের দিন পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তার দুই পুত্র তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোও কারাবন্দি ছিলেন।

 

২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তার মায়ের মৃত্যুর পর ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি মায়ের লাশ দেখার সুযোগ পান। প্রায় ৩৭২ দিন কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন।পরবর্তীতে ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রথমে নাজিমুদ্দিন রোড কারাগারে এবং পরে স্বাস্থ্যগত কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে রাখা হয়। প্রায় দুই বছরের বেশি সময় তিনি কার্যত কারাবন্দি ছিলেন।

 

২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তার সাজা স্থগিত করে বাসায় চিকিৎসার অনুমতি দেয়, যা কার্যত গৃহবন্দিত্বের সমতুল্য ছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি রাজনৈতিকভাবে বন্দি অবস্থায় ছিলেন।

 

পরবর্তীতে জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তার দণ্ড মওকুফ করা হয়। একই বছরের ২৭ নভেম্বর দুর্নীতি মামলাগুলো থেকে তিনি খালাস পান। দীর্ঘ কারাজীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রেখে গেলেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পণ্য খালাসে সময় ও খরচ কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

১

কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

২

ট্রাম্পের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশল বিনিময়

৩

বাবার স্বপ্ন পূরণে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে: গণপূর্তমন্ত্রী

৪

ঢাকায় মেটার অফিস খোলা নিয়ে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

৫

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

৬

দূরপাল্লায় ৮ পয়সা, সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

৭

‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

৮

বাংলাদেশকে কুষ্ঠমুক্ত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৯

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী

১০

কাইল্ল্যা ফারুক মাদক কারবারিদের গডফাদার ছিলেন

১১

ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান চাকরি থেকে বরখাস্ত

১২

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

১৩

জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর অষ্টম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

১৪

চীনা যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন করলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও নৌবাহিনীর প্রধান

১৫

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান তারেক রহমানের

১৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো দলের পক্ষপাত নয়: ববি হাজ্জাজ

১৭

সাংবাদিক পরিষদের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কামরুল ইসলাম

১৮

নির্জন পাহাড়ে অপ্রতিমের মরদেহ, এরপর ঘটেছিল আরও এক নির্মমতা

১৯

পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

২০

Design & Developed by: BD IT HOST