ময়মনসিংহের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য নাম জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও অকুতোভয় পেশাদারিত্বের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সমসাময়িক পুলিশিং ইতিহাসে বিরল। সম্প্রতি সরকারি আদেশে তাকে পিবিআই গাজীপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে। তার এই বিদায়ে ময়মনসিংহবাসীর হৃদয়ে যেমন শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তেমনি তার অসামান্য কর্মগুণে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন অবিস্মরণীয় জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা।
তদন্তে আধুনিকতা ও অপরাধ দমনে সাফল্যসেপ্টেম্বর ২০২২ থেকে অদ্যবধি পিবিআই ময়মনসিংহের কাণ্ডারি হিসেবে জনাব রকিবুল আক্তার ছিলেন অপরাধ দমনে এক আপসহীন সেনানি। বিশেষ করে ময়মনসিংহের বহু ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর মামলার জট খুলতে তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও পিবিআই-এর বিশেষায়িত ডিজিটাল ফরেনসিক কৌশল প্রয়োগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। উর্দির আড়ালে একজন কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মকর্তা হলেও বিচারপ্রার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন এক পরম আস্থার শেষ ঠিকানা।
৫ই আগস্ট পরবর্তী ক্রান্তিকাল ও নেত্রকোনায় বলিষ্ঠ নেতৃত্ব উল্লেখ্য যে, গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তখন অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে ময়মনসিংহে নিজ দায়িত্ব পালন করেন জনাব রকিবুল আক্তার। এর পাশাপাশি তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নেত্রকোনা জেলায় পিবিআই-এর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। ৫ই আগস্ট পরবর্তী প্রতিকূল সময়ে নেত্রকোনা জেলার তদন্ত কার্যক্রম গতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের প্রতি আস্থার জায়গা সুদৃঢ় করতে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন দূরদর্শী ও সংকটকালীন দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে তার এই ভূমিকা উভয় জেলার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ব্যস্ততার মাঝেও স্রষ্টার সান্নিধ্যপ্রশাসনিক জটিলতা ও মামলার পাহাড়সম চাপের মধ্যেও জনাব রকিবুল আক্তার তার ধর্মীয় নৈতিকতাকে কখনো বিসর্জন দেননি। শত ব্যস্ততার মাঝেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করা ছিল তার প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই ধর্মীয় একাগ্রতা ও চারিত্রিক শুভ্রতা অধস্তন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরল প্রেরণা হয়ে থাকবে।
মানবিক পুলিশিং ও জনবান্ধব ইমেজতিনি নিজেকে কেবল একজন সরকারি আমলা হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন একজন মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে। নারী ও শিশুদের প্রতি তার বিশেষ সংবেদনশীলতা এবং অসহায় মানুষের আর্তনাদ শোনার জন্য তার দপ্তরের দুয়ার সবসময় খোলা ছিল। তার কাছে আসা প্রতিটি বিচারপ্রার্থী কেবল আইনি প্রতিকারই নয়, বরং একজন অভিভাবকসুলভ সহমর্মিতাও পেয়েছেন।
বিনম্র বিদায় ও অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা বিদায় বেলায় এই জননন্দিত কর্মকর্তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সুর। ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অকৃত্রিম সমর্থনের কথা তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন। একই সাথে দায়িত্ব পালনকালে অনিচ্ছাসত্ত্বেও কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে অনুরোধ করেছেন।
ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলাবাসী আজ তার বিদায়ে বিষাদগ্রস্ত হলেও, তার নতুন কর্মস্থল গাজীপুর জেলার জন্য এটি এক বড় প্রাপ্তি। আমরা এই কর্মবীরের সুস্বাস্থ্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। তার রেখে যাওয়া আদর্শ ও সততার আলোকবর্তিকা এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অক্ষয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST