bela
১৮ নভেম্বর ২০২৫, ৪:১৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

উখিয়ায় বৈদ্যুতিক শকে বন্য হাতির মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ায় আবারও ঘটেছে বন্যপ্রাণী মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা। লোকালয়ে পাতা অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোরে রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতি পাড়ার একটি ফাঁকা মাঠে হাতিটির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বন বিভাগকে খবর দেন। পরে বন বিভাগের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের শেষ ভাগে হাতিটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে ঘর থেকে বের হয়ে তারা মাঠে বিশাল আকৃতির নিথর দেহ দেখতে পান। কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন এটি একটি বন্য হাতি। মুহূর্তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। অনেকে দৃশ্যটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ করেন—মানুষ ফসল রক্ষায় এমন নিষ্ঠুর পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে যা সরাসরি প্রাণহানির কারণ হচ্ছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পায়ের ছাপ, বৈদ্যুতিক তারের অবশিষ্টাংশসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা, ফসল রক্ষায় কেউ কারেন্টযুক্ত জাল বা বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রেখেছিল। হাতিটি সেই ফাঁদে স্পৃষ্ট হয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে মারা যায়। কর্মকর্তারা জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত করা হবে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ফাঁদ পাতা ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।এই ঘটনায় পরিবেশবাদী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মানুষের সঙ্গে বন্য হাতির দ্বন্দ্ব বাড়লেও প্রতিরোধ হিসেবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শুধু বন্যপ্রাণীই নয়, অসাবধানে কোনো মানুষ বা শিশুও প্রাণ হারাতে পারে। তাদের মতে, খাদ্যের অভাব, বনভূমি সংকোচন ও হাতির চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তাই দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও নিরাপদ সমাধান ছাড়া সংঘাত কমবে না।

See also  শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

 

এলাকাবাসী জানান, হাতিরা কখনো কখনো ফসল নষ্ট করলেও প্রাণহানি ঠেকাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তারা নিরাপদ ফসল-রক্ষা প্রযুক্তি চালুর দাবি জানান।

 

বন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত বা অবহেলার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী হত্যার শাস্তি অর্থদণ্ড থেকে শুরু করে কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

 

এ বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, মামলার বিষয়টি জেনেছি। মিটিংয়ে আছি, তাই বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

 

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত কমাতে বাফার জোন তৈরি, হাতির করিডর পুনরুদ্ধার, সৌরচালিত নিরাপদ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। এসব উদ্যোগ না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা থামানো কঠিন হবে।

 

হাতিটির মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। স্থানীয়রা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ মিলে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুই নদী পেরিয়ে ভোট, কাছাকাছি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দাবি বীর সাপধরীবাসীর

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত কর্মী আটক

১২৫ ওভারে শেষ, ইতিহাসে এমন ম্যাচ আছে কয়টি

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রাথমিক শিক্ষার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, সেপ্টেম্বরে পে স্কেলের গেজেট

কারা মহাপরিদর্শক থেকে জাতিসংঘে বড় পদে মোতাহের হোসেন

ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুই প্রতিমন্ত্রী

সত্য ও জনগণের স্পৃহাকে কখনো নিষিদ্ধ করে দমিয়ে রাখা যায় না: তথ্যমন্ত্রী

১০

শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

১১

শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী

১২

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের জীবনবৃত্তান্ত

১৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

১৪

ইউনূস, আসিফ নজরুল, নাহিদ, হাসনাতসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

১৫

ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে বক্তব্য: ডা. সাইফুল আলম সরওয়ারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

১৬

পাবনায় ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, নগদ টাকা উদ্ধার

১৭

নড়াইলে ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

১৮

কারামুক্ত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

১৯

কারামুক্ত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

২০

Design & Developed by: BD IT HOST