স্টাফ রিপোর্টার
২১ অগাস্ট ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের জীবনবৃত্তান্ত

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতিতে হাতেখড়ি, মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন এবং এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।

 

জাতীয় সংসদের প্রত্যক্ষ ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রবীণ এই রাজনীতিককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছেন সংসদ সদস্যরা।

 

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে ৭৮ বছর বয়সি এই রাজনীতিক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিবের দায়িত্বেও ছিলেন।

 

মধ্য-ডানপন্থী রাজনৈতিক দল বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আগে সিভিল সার্ভিসের শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য হিসেবে অর্থনীতির শিক্ষকতা করেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দায়িত্বও পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সময় মির্জা ফখরুল সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।

 

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

 

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের জন্য মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি।

 

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানই শেষ পর্যন্ত জাতিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। সে সময় বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন।

 

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে যোগ দেন শিক্ষকতা পেশায় এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। একই সময়ে সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

See also  হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারির একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এ ছাড়া ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন।

 

মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিতে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। এর দুই বছর পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের জন্মস্থান উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমানে এই পদটি মেয়র হিসেবে পরিচিত। এর কিছুদিন পর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন আলমগীর।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিরপুরে মাদক কারবারি মুক্তারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় বদলেরও দাবি

দুই নদী পেরিয়ে ভোট, কাছাকাছি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দাবি বীর সাপধরীবাসীর

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত কর্মী আটক

১২৫ ওভারে শেষ, ইতিহাসে এমন ম্যাচ আছে কয়টি

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রাথমিক শিক্ষার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, সেপ্টেম্বরে পে স্কেলের গেজেট

কারা মহাপরিদর্শক থেকে জাতিসংঘে বড় পদে মোতাহের হোসেন

ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুই প্রতিমন্ত্রী

১০

সত্য ও জনগণের স্পৃহাকে কখনো নিষিদ্ধ করে দমিয়ে রাখা যায় না: তথ্যমন্ত্রী

১১

শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

১২

শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী

১৩

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের জীবনবৃত্তান্ত

১৪

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

১৫

ইউনূস, আসিফ নজরুল, নাহিদ, হাসনাতসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

১৬

ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে বক্তব্য: ডা. সাইফুল আলম সরওয়ারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

১৭

পাবনায় ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, নগদ টাকা উদ্ধার

১৮

নড়াইলে ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

১৯

কারামুক্ত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

২০

Design & Developed by: BD IT HOST