এম আরফাত সুমন - চট্টগ্রাম।
১০ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নির্বিঘ্ন ঈদ যাত্রা: সড়ক ও রেলপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই শেকড়ের টানে এক বিশাল জনস্রোত। যান্ত্রিক নগরীর কর্মব্যস্ততা ফেলে প্রতিটি মানুষ তখন চায় মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন আর শৈশবের স্মৃতিঘেরা আঙিনায় ফিরে যেতে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ‘ঘরে ফেরা’ কেবল একটি যাত্রা নয়, বরং এটি এক পাক্ষিক উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

তবে গত কয়েক দশকের ট্র্যাজেডি হলো—এই উৎসবের আনন্দযাত্রাই অনেকের জন্য পরিণত হয় জীবনের শেষ যাত্রায়। সংবাদপত্রের পাতায় ঈদ যাত্রার বর্ণনায় ‘ভোগান্তি’ আর ‘দুর্ঘটনা’ শব্দ দুটি যেন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬-এর এই পরিবর্তিত ও সংস্কারমুখী বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—জনগণের এই আবেগঘন যাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও মর্যাদাপূর্ণ করা।

 

বিগত আওয়ামী শাসনামলে সড়ক ও যোগাযোগ খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের আড়ালে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে উঠেছিল। বড় বড় মেগা প্রজেক্টের গল্প শোনানো হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তা ছিল চরমভাবে উপেক্ষিত।

 

গণমাধ্যমের গত ৫ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঈদে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন হাজারো মানুষ। এই মৃত্যুর মিছিলের প্রধান কারণ ছিল পরিবহন সেক্টরে ক্ষমতাসীনদের মদদপুষ্ট সিন্ডিকেট।

 

তৎকালীন সময়ে ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িকে মহাসড়কে অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতো। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে চালকদের লাইসেন্স ও দক্ষতার তোয়াক্কা করা হতো না। ফলে ঈদ যাত্রা মানেই ছিল এক অনিশ্চিত গন্তব্য। ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারি থেকে শুরু করে বাসের টিকিটে কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া আদায়—সবই চলত প্রশাসনের নাকের ডগায়। বিগত বছরের সম্পাদকীয়গুলোতে উঠে এসেছিল কীভাবে সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা—পরিবহন মাফিয়াদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্নীতির কারণে সড়কগুলো এক একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল।

 

বর্তমান সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তার অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ট্রাফিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা। প্রধানমন্ত্রী নিজে যেভাবে ভিভিআইপি কালচার পরিহার করে সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। এর আগে আমরা দেখেছি, একজন ভিভিআইপি-র চলাচলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ করে হাজার হাজার মানুষকে জ্যামে আটকে রাখা হতো।

See also  হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’, দাবি ট্রাম্পের

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ‘রাজকীয়’ প্রথা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি লালবাতি জ্বালিয়ে বা রাস্তা ব্লক করে চলাচলের ঘোর বিরোধী। তিনি নিজে সড়ক আইন মেনে চলছেন, যা পুরো পুলিশ বাহিনী এবং প্রশাসনের জন্য এক নীরব অথচ শক্তিশালী বার্তা। তার এই সময়ানুবর্তিতা এবং ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’—এই নীতি যদি এবারের ঈদ যাত্রায় প্রতিটি মহাসড়কে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়ের আভাস

ছাত্রনেতা থেকে ‘মহামান্য’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণিত অলিম্পিয়াড বিজয়ীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

তিন বছরের মধ্যে আরও ৩ এলএনজি টার্মিনাল করার পরিকল্পনা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুলের প্রস্তাবক ও সমর্থক কারা?

হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা নেই: ইয়েমেন

হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’, দাবি ট্রাম্পের

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগ, গহীন পাহাড়ে আবারও বাজবে—‘স্কুলঘণ্টা’

১০

আরেক মামলায় গ্রেফতার সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী মোনালিসা

১১

গোলাম রাব্বানীর ভাই রুহানী যে কারণে পুলিশের চাকরি হারালেন

১২

হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর প্রাণহানি

১৩

যে কয়টারে পার, উঠায়া নিয়া যাও: শেখ হাসিনা

১৪

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

১৫

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সভা আজ

১৬

টাঙ্গাইল রেলস্টেশনে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি

১৭

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের ৫৫ জনই পেলেন জিপিএ-৫

১৮

২২৬টি মাদ্রাসার কেউই পাস করতে পারেনি

১৯

এসএসসি-সমমানে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, ৭১.৬৩ শতাংশ

২০

Design & Developed by: BD IT HOST