স্টাফ রিপোর্টার
১১ জুলাই ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, গাড়ির পরিবর্তে মহাসড়কে চলছে নৌকা

কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

 

অন্যদিকে তীব্র নদীভাঙনে মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গ্রামীণ সড়ক। বিভিন্ন জায়গায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহনের পরিবর্তে নৌকায় চলাচল করছেন অনেকে।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। টানা বর্ষণে বাঁকখালী নদী ও এর শাখা-প্রশাখার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের জনপদ প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বহু পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

 

পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর অভাবে বিপাকে পড়েছেন তারা। সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা।

 

এদিকে প্লাবনের পাশাপাশি নদীভাঙন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। প্রবল স্রোতে নদী তীরবর্তী এলাকায় একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না। ফলে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

 

প্লাবনের কারণে স্থানীয় সড়ক, কাঁচা রাস্তা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমন ধানের বীজতলা, বিভিন্ন সবজিখেত ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

নদীভাঙনের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি দক্ষিণকূল পূর্বপাড়া এলাকায়। সেখানে প্রবল স্রোতে নদীর পাড় ধসে ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও বহু বাড়ি এখন ভাঙনের মুখে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সিরাজুল হক বলেন, প্রবল বর্ষণে আমার শেষ সম্বল বসতবাড়ির অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে। বাকি অংশও ভাঙনের মুখে। কখন পুরো বাড়িটাই নদীতে হারিয়ে যাবে, সেই আতঙ্কে দিন কাটছে।

See also  সাংবাদিক নিবন্ধন: পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ | মো. কামরুল ইসলাম

 

একই এলাকার দিনমজুর মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙন হচ্ছে। এখন ভাঙন আমার বাড়ির উঠান পর্যন্ত চলে এসেছে। শুধু অপেক্ষা করছি, কখন নদী আমার বাড়িটাও গিলে ফেলে। পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, সেই দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।

 

কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ঈসমাইল নোমান বলেন, টানা বর্ষণ ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে একাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার

হজের খরচ কমাতে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: বিমান প্রতিমন্ত্রী

হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

বাঁশখালীতে ২ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, জব্দ মোটরসাইকেল

আর্থিক কেলেঙ্কারি ও স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে জবিরিইউ সভাপতি জাহাঙ্গীর বহিষ্কার 

ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিজিবির অভিযান চার লাখ একাশি হাজার টাকার ভারতীয় মদ উদ্ধার ​

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ আটক 

সাংবাদিক নিবন্ধন: পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ | মো. কামরুল ইসলাম

জবির নতুন ট্রেজারার হিসেবে শিক্ষার্থীর পছন্দ মার্কেটিং বিভগের অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির উদ্যোগে বেকার যুবকদের মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন   

১০

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

১১

সাতক্ষীরার এমপি নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

১২

বিরতির পর আজ শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা

১৩

হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু, অনুমতি পাবেন না যারা

১৪

সেনা পদোন্নতিতে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৫

সাংবাদিকের কাজ তথ্য দেওয়া, অ্যাক্টিভিস্ট হওয়া নয়: তথ্যমন্ত্রী

১৬

৩০০ ছাড়ালো কাঁচামরিচের কেজি

১৭

ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করে যে দলে যোগ দিলেন মেঘমল্লার বসু

১৮

অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

১৯

রাজবাড়ীতে কারাগারে হাজতির মৃত্যু

২০

Design & Developed by: BD IT HOST