দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান আর নেই

দড়ি আর বাঁশ বেয়ে মসজিদে যাওয়া নাটোরের বড়াইগ্রামের ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যু বরণ করেছেন।

 

তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আজ সোমবার সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

 

এই বর্ষীয়ান ধর্মপ্রাণ মানুষটিকে নিয়ে ২০২৪ সালের ১৩ মে যুগান্তরের অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।

 

জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। এর ৬ বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন। এরপর দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করেন একটি পাকা মসজিদ। মসজিদের নামেই তিনি জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিন্তু চোখে দেখতে না পাওয়ায় জটিলতা দেখা দেয় মসজিদে আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই প্রতিবন্ধকতাও জয় করে ফেলেন শতবর্ষী এই বৃদ্ধ।

 

এজন্য সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত টেনে দেন দড়ি ও বাঁশ। এরপর দড়ি আর বাঁশের সাহায্যে নিয়মিত মসজিদে যেতেন তিনি।

 

আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে স্কুল শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল জানান, হজ পালন করে আসার পর তার বাবা মসজিদ স্থাপন করে সেখানে ৫ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। তখনই জটিলতা দেখা দেয় আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই জটিলতাও নিরসনের পথ বাতলে নেন আব্দুর রহমান মোল্লা নিজেই। বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দিতে বলেন।

 

বাবার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন ছেলেরা। এরপর প্রথম দিকে কয়েকদিন তার ছেলে ও নাতিরা দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তাকে যাতায়াত ও রাস্তা পার হতে অভ্যস্ত করে তোলেন।

 

এ ছাড়া বাঁশ ও দড়ি খুঁজে পেতে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি লাঠিও। এভাবে কয়েকদিন দেখিয়ে দেওয়ার পর আর কারও সাহায্য নিতে হয়নি শতবর্ষী এই বৃদ্ধকে। এরপর থেকে তিনি নিজেই দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে বাড়ি থেকে মসজিদে যেতেন।

 

তার মৃত্যুতে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিলেন তিনি। দুই চোখ অন্ধ হওয়া স্বত্বেও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রসারসহ মানুষকে ধর্মের পথে আনতে তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তা সত্যিই বিরল। তার মৃত্যুতে সকলেই গভীরভাবে মর্মাহত। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ সিলেট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ইসরাইলের বিমান হামলায় লেবাননে ১২ জন নিহত

আজ মহান মে দিবস

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সরকার কি বাতিল করবে?

ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে

সাঈদীর যে স্মৃতি স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিলেন মাসুদ সাঈদী

নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি) নির্বাচন ২০২৬, বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

জামিন পেলেন ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো সেই ইমি

১০

‘৫ মিনিটে গোল দিয়ে তারা ভাবছে আমরাই সেরা খেলোয়াড়’

১১

৩০ এপ্রিল: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

১২

হাসিনার ভুল সিদ্ধান্তেই চট্টগ্রাম ডুবেছে: চসিক মেয়র

১৩

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

১৪

মানবাধিকারে মঞ্জুর হোসেন ঈসাসহ ১০ জনের স্বীকৃতি

১৫

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেভরন কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১৬

বিএনপির সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

১৭

চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেলে অভিযান, ১১ নারী-পুরুষ আটক

১৮

কোস্ট গার্ডে ১০ হাজার নতুন নিয়োগ দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯

প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় আহত সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক

২০

Design & Developed by: BD IT HOST