কামরুল ইসলাম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান আর নেই

দড়ি আর বাঁশ বেয়ে মসজিদে যাওয়া নাটোরের বড়াইগ্রামের ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যু বরণ করেছেন।

 

তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আজ সোমবার সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

 

এই বর্ষীয়ান ধর্মপ্রাণ মানুষটিকে নিয়ে ২০২৪ সালের ১৩ মে যুগান্তরের অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।

 

জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। এর ৬ বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন। এরপর দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করেন একটি পাকা মসজিদ। মসজিদের নামেই তিনি জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিন্তু চোখে দেখতে না পাওয়ায় জটিলতা দেখা দেয় মসজিদে আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই প্রতিবন্ধকতাও জয় করে ফেলেন শতবর্ষী এই বৃদ্ধ।

 

এজন্য সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত টেনে দেন দড়ি ও বাঁশ। এরপর দড়ি আর বাঁশের সাহায্যে নিয়মিত মসজিদে যেতেন তিনি।

 

আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে স্কুল শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল জানান, হজ পালন করে আসার পর তার বাবা মসজিদ স্থাপন করে সেখানে ৫ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। তখনই জটিলতা দেখা দেয় আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই জটিলতাও নিরসনের পথ বাতলে নেন আব্দুর রহমান মোল্লা নিজেই। বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দিতে বলেন।

 

বাবার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন ছেলেরা। এরপর প্রথম দিকে কয়েকদিন তার ছেলে ও নাতিরা দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তাকে যাতায়াত ও রাস্তা পার হতে অভ্যস্ত করে তোলেন।

See also  পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

 

এ ছাড়া বাঁশ ও দড়ি খুঁজে পেতে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি লাঠিও। এভাবে কয়েকদিন দেখিয়ে দেওয়ার পর আর কারও সাহায্য নিতে হয়নি শতবর্ষী এই বৃদ্ধকে। এরপর থেকে তিনি নিজেই দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে বাড়ি থেকে মসজিদে যেতেন।

 

তার মৃত্যুতে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিলেন তিনি। দুই চোখ অন্ধ হওয়া স্বত্বেও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রসারসহ মানুষকে ধর্মের পথে আনতে তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তা সত্যিই বিরল। তার মৃত্যুতে সকলেই গভীরভাবে মর্মাহত। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দূরপাল্লায় ৮ পয়সা, সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

বাংলাদেশকে কুষ্ঠমুক্ত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী

কাইল্ল্যা ফারুক মাদক কারবারিদের গডফাদার ছিলেন

ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান চাকরি থেকে বরখাস্ত

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর অষ্টম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

চীনা যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন করলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও নৌবাহিনীর প্রধান

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান তারেক রহমানের

১০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো দলের পক্ষপাত নয়: ববি হাজ্জাজ

১১

সাংবাদিক পরিষদের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কামরুল ইসলাম

১২

নির্জন পাহাড়ে অপ্রতিমের মরদেহ, এরপর ঘটেছিল আরও এক নির্মমতা

১৩

পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৪

নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কের দুই পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান

১৫

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৩২

১৬

বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য: ড. তিতুমীর

১৭

প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার

১৮

হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ

১৯

মেট্রোরেলের অতিব্যয়ে ঋণঝুঁকি বাড়ছে

২০

Design & Developed by: BD IT HOST