গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় নিহত সোহেলের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মামলা করেছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান মামলার বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল রবিবার ভোরে স্থানীয় বনমালা এলাকা থেকে বাবা-ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রবিবার ভোররাতে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় মো. সোহেল ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব হত্যার ঘটনায় সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কাউকে আসামি না করলেও আটক সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানকে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।
নিহতরা হলেন, টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া বনমালা প্রাইমারী স্কুল রোডের মোস্তফা দর্জির ছেলে মো: সোহেল (৪৮) ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। এ ঘটনায় আটক নিহত সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭)। নিহত শোয়েব রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। সে পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার তেঁজগায়ে একটি দোকানে চাকরিও করতেন। আটক সাইফুর রহমান একটি ঔষুধ কারখায় কাজ করতেন।
সরেজমিন জানা যায়, নিহত সোহেল ঢাকার খিঁলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে টঙ্গীর বনমালায় এক কাঠা জায়গা ক্রয় করে দুই রুমের একটি টিনসেড ঘর তৈরী করে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সোহেলের বোনেরা বড়লোক হওয়ায় সোহেলকে টাকা দিয়ে সহযোগিতাও করতেন। এ অবস্থায় ভালই চলছিল চার সদস্যের পরিবার। ১৮ মাস আগে জটিল রোগে তার স্ত্রী মারা যায়। স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে রান্না করে খাওয়াতেন বাবা। দুই ছেলের দেখভাল ও রান্নাবান্না করা ছাড়া তার অন্য কোন কাজ ছিল না।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST