রাজধানীর মোহাম্মদপুর ডি-টাইপ কলোনির ২৮৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেট “ডি” টাইপ কলোনী কল্যাণ সমিতি।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৬০ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এবং একটি জার্মান এনজিওর সহায়তায় মোহাম্মদপুর ডি-টাইপ কলোনিতে ২৮৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ৮টি ভবনের ২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটগুলো এসব পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ‘কনকচাঁপা’ ও ‘দোলনচাঁপা’ নামে ৪৩০টি নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। তখন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৮টি পরিবারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
তবে পরবর্তীতে ওই আশ্বাস বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন কলোনির বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, আদালতের রায়/আদেশ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ২৫৭টি আবেদনের মধ্যে ১২৭টি আবেদনকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মূল ২৮৮টি নথির মধ্যে ১১৫টি নথি গায়েব হওয়ার অভিযোগও সংবাদ সম্মেলনে করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ফ্ল্যাটের মূল্য নতুন আবেদনকারীদের সমান নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রতি বর্গফুট ৬ হাজার ৫৫৫ টাকা। পাশাপাশি কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা ৮ বছর থেকে কমিয়ে ৪ বছর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, সংরক্ষিত কোটা, গ্রেডেশন ও লটারির মাধ্যমে মোট ১৬৫টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন জাগৃক চেয়ারম্যানের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং চার কর্মকর্তার লটারি ছাড়াই একাধিক ফ্ল্যাট ও গ্যারেজ দখলের অভিযোগও তোলা হয়। ভবন ভাঙার সময় আনুমানিক দুই কোটি টাকার সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগও করেন তারা।
সংগঠনটি জানায়, আগস্টের শেষ দিকে মানববন্ধন কর্মসূচির পর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাত দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে ২৮৮টি পরিবারের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. আদালতের রায়/আদেশ বাস্তবায়ন এবং বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নতুন স্বাধীন যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন।
২. ২৮৮টি পরিবারের জন্য ২৮৮টি ফ্ল্যাটের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন।
৩. মানবিক কিস্তি সুবিধা—৫০ শতাংশ ৮ বছরে এবং বাকি ৫০ শতাংশ ১৬ বছরে পরিশোধের সুযোগসহ দ্রুত ফ্ল্যাট হস্তান্তর।
৪. আবেদনের সুযোগ থেকে বাদ পড়া ৩৫টি পরিবারকে পুনরায় আবেদনের সুযোগ প্রদান।
৫. দোলনচাঁপা প্রকল্পে ভবনভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ।
৬. কনকচাঁপা প্রকল্পে অতিরিক্ত তিনটি লিফট স্থাপন।
৭. বাইতুস সুজুদ জামে মসজিদকে প্রকল্পের স্থায়ী অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
চারটি অগ্রাধিকার দাবি
সংগঠনটির পক্ষ থেকে চারটি দাবিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—রিট পিটিশন নং ৭৬৪১/২০২১ ও ১৮৩২৮/২০২৫-এর রায়/আদেশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন, ২৮৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ২৮৮টি ফ্ল্যাট নিশ্চিত করা, বিতর্কিত বা অযোগ্য বরাদ্দের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যাচাই এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে কলোনি কল্যাণ সমিতির নেতারা বলেন, তাঁরা প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আইনের শাসনের ওপর আস্থা রাখতে চান। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান এবং ২৮৮টি পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে সহযোগিতা ও উপস্থিতির জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, রিপোর্টার, ফটোসাংবাদিক, ক্যামেরাপারসন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেট “ডি” টাইপ কলোনী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মরগুব আহমেদ নাজম উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার কামাল উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST