ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকট, বিপাকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চালকরা

ওষুধ কোম্পানির কাভার্ডভ্যানচালক রবিউল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ওষুধ নিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ যাচ্ছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকাল ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের রসুলপুর সবুর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য গাড়ির লাইনে দাঁড়ান। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনি কোনো জ্বালানি পাননি।

 

রবিউল ইসলাম বলেন, ২২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো জ্বালানি পাইনি। এতে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো ওষুধ পৌঁছে দিতে পারছি না। গাড়ির ওষুধগুলো তারাগঞ্জ পৌঁছে দিয়ে রূপগঞ্জ ফিরে তারপর ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। জ্বালানি তেলের যে সংকট আর যে যানজট তাতে মনে হয় ঈদ সড়কেই করতে হবে।

 

শুধু রবিউল ইসলাম নয়, তার মতো হাজার হাজার যানবাহনের চালক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য অপেক্ষা করছে। চাতক পাখির মতো পাম্পের দিকে তাকিয়ে রয়েছে চালকরা।

 

মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, ইতোমধ্যে অনেকটা ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। গত বুধবার থেকে টাঙ্গাইলের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পে ডিজেল আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ দুর্ভোগ শেষ হবে কবে তাও জানেন না পরিবহন চালকরা।

 

পরিবহণ চালকরা জানান, টাঙ্গাইলের বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের চালকরা। তাদের ১৫ থেকে ২২ ঘণ্টা যাবত পাম্পে সিরিয়াল দিয়েও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পেয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চলমান ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।

 

কালিহাতীর ট্রাকচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গতকাল রাতে চাল ঢাকায় রেখে টাঙ্গাইলে এসে বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়লে তখন মহাবিপদ হতে পারে।

 

মহাসড়কের বিপুল পরিবহণের চালক ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমি জামালপুর থেকে কক্সবাজার ট্রিপ দেই। রোববার ভোর থেকে পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো জ্বালানি পাচ্ছি না। তবে টাঙ্গাইলের কোনো কোনো পাম্প তাদের স্থানীয় যানবাহন ও প্রভাবশালীদের জ্বালানি দিচ্ছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি কামনা করেন তিনি।

 

টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইলে নারায়ণগঞ্জ ও বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে জ্বালানি আনা হয়। সেখানে থেকে পর্যাপ্ত সরাবরাহ দিতে পারছে না। এতে আমরাও গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পারছি না। জ্বালানি নামানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলে জ্বালানি মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ফিলিং স্টেশনকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

 

জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম লাবলু বলেন, আমরা কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পুরোদমে যখন ঈদযাত্রা শুরু হবে, তখন আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি) নির্বাচন ২০২৬, বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

জামিন পেলেন ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো সেই ইমি

‘৫ মিনিটে গোল দিয়ে তারা ভাবছে আমরাই সেরা খেলোয়াড়’

৩০ এপ্রিল: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

হাসিনার ভুল সিদ্ধান্তেই চট্টগ্রাম ডুবেছে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

মানবাধিকারে মঞ্জুর হোসেন ঈসাসহ ১০ জনের স্বীকৃতি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেভরন কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিএনপির সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

১০

চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেলে অভিযান, ১১ নারী-পুরুষ আটক

১১

কোস্ট গার্ডে ১০ হাজার নতুন নিয়োগ দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় আহত সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক

১৩

পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, রূপপুরের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বসছে আজ 

১৪

ভাড়া বাড়ানোর দায়িত্ব সরকারের মনিটরিং এর দায়িত্ব কার: মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী

১৫

মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

১৬

‘এলপিজি কার্ডে’ যে সুবিধা থাকবে, কারা পাবেন

১৭

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৫

১৮

টঙ্গীতে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় মামলা

১৯

রাজধানীতে শতাধিক চোরাই মোবাইলসহ দুই চীনা নাগরিক গ্রেফতার

২০

Design & Developed by: BD IT HOST