প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার ও সোমবার মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।
সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিবেচনায় মালয়েশিয়া-চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখা হচ্ছে সর্বমহলে। সফরে কি হতে যাচ্ছে তা নিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকবে প্রতিবেশী ভারত ও পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারত ও চীনকে এড়িয়ে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় কোনো বিতর্ক বা সমালোচনার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় গন্তব্য যেহেতু চীন সেহেতু কূটনৈতিক, ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় সফরে কি কি ঘটতে যাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণে থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ভূরাজনৈতিক দিকের তুলনায় অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মনে করি এই সফরে অর্থনীতির নানা বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে সামনে থাকবে।’
সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন। সফরের কর্মসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি ও সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় আলোচনার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক নানা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি।
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি জানান, মালয়েশিয়া সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে সোমবার, এদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই নেতার বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা। পাশাপাশি ভিসা জটিলতা, কনস্যুলার সেবার সীমাবদ্ধতা এবং অনথিভুক্ত কর্মীদের সমস্যা নিয়েও আলোচনা হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শ্রমবাজারে নতুন অগ্রগতির ঘোষণা আসতে পারে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, হালাল খাদ্য, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, সুনীল অর্থনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST