কামরুল ইসলাম
২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যে কারণে ইউনূস সরকারের শেষ সময়ের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনও বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আপনার মেয়াদ শুরুর এ সময়ে আমি আশা করি, আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্কের দারুণ গতি ধরে রাখতে আপনি আমাকে সাহায্য করবেন। এ চুক্তিতে আমাদের উভয় দেশের কৃষক ও শ্রমিকেরা সুবিধা পাবেন।

 

সম্প্রতি ড. ইউনূসের সময়ে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড নামে এ চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষর হওয়ায় পর এটা নিয়ে নানা সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার।

 

এখন প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এ চুক্তি স্বাক্ষর কেন করতে হলো?

 

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিলো নয় মাস ধরে। কিন্তু গোপনীয়তার শর্তের কারণে তখন এর বিস্তারিত প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ। এখন চুক্তি প্রকাশ হওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলছেন, এ চুক্তির পূনর্মূল্যায়ন হওয়া দরকার।

 

চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়ের দিকে নজর দিয়ে এটাও বলা হচ্ছে যে, চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি, বরং প্রধান্য পেয়েছে আমেরিকার ইচ্ছা।

 

অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের উচিত চুক্তি পরীক্ষা করে দেখা।

 

২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর বিভিন্ন হারে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যেটা বিশ্ব অর্থনীতিতে একধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিলো। বাংলাদেশের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয় ৩৫ শতাংশ।

 

সেসময় বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানোর অনুরোধ করে। পরে সেই শুল্ক হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে শুল্ক নিয়ে চূড়ান্ত মতে পৌঁছাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও চলতে থাকে। গত নয় মাস ধরে বিভিন্ন বৈঠক ও ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ নামে এ বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। নতুন চুক্তির পর বাংলাদেশের উপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক এখন ১৯ শতাংশ।

See also  বেনজীরকে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক

 

চুক্তিতে উভয় দেশের বিভিন্ন পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশনে ‘দুর্বলতা’ দেখতে পেয়েছেন অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেনজীরকে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক

ভাতা নয়, মৃত্যুর পূর্বে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান মুক্তিযোদ্ধা সুভাস চন্দ্র বসু

নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা

৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই তিউনিসিয়ার

ব্রাজিলের বিশ্বরেকর্ড কেড়ে নিল জার্মানি

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার

মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২

চীন সফর শেষে ঢাকায় ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদীয় দল

ভারতীয় এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নি’হ’ত ৫

১০

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

১১

হঠাৎ বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন

১২

ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা

১৩

হাসিনার শেষ ও তারেক রহমানের প্রথম বাজেট একনজরে

১৪

দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল কোথায়

১৫

চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ ৬০ নিত্যপণ্যের দাম কমতে পারে; সিগারেট, রড, বিদেশী প্রসাধনীর দাম বাড়তে পারে

১৬

ছাত্রদলের হাতে বেদম মার খেলেন সেই ‘সমন্বয়ক’ মাহাদী

১৭

বিশ্বকাপে ফ্রিতে যা বিলাচ্ছে মেক্সিকো ও কানাডা

১৮

তিন দেশেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, থাকছে যেসব চমক

১৯

দুই মাসের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ও মার্জিন রুলস ২০২৫ বাতিলের আশ্বাস

২০

Design & Developed by: BD IT HOST