দেশে বাসাবাড়িতে স্থাপিত অর্ধেক সোলার সিস্টেমই এখন অকার্যকর। ৬৯ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের মধ্যে ৩০ লাখ কাজ করছে না। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া জাতীয় গ্রিড এই সোলার সম্প্রসারণ করায় এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) গবেষণায় উঠে আসা তথ্যের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিগত সমন্বয়হীনতার কারণে এই খাতে বিনিয়োগের বড় অংশ অকার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে সোলার সিস্টেম প্রকল্পের নষ্ট ব্যাটারি ও প্যানেল নতুন পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি করছে।
সিপিডির সংলাপে পাকিস্তানের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা ‘রিনিউয়েবলস ফার্স্ট’-এর প্রধান কর্মসূচি ও উদ্যোগ বিশেষজ্ঞ ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ বাসিত গৌরী ‘সোলার রাশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের নতুন এক রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। তবে উচ্চকর, অর্থায়নের সংকট এবং নীতিগত জটিলতা এই রূপান্তরের বড় বাধা।
সিপিডির ‘এসএইচএস সার্ভে ২০২৫’ অনুযায়ী, ২০০৩ সালে অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাইকার অর্থায়নে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর লক্ষ্যে সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি শুরু করে। প্রায় ৩০টি সহযোগী এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত এ কর্মসূচি একসময় বিশ্বের বৃহত্তম অফগ্রিড সৌর কর্মসূচিতে পরিণত হয় এবং দুই কোটিরও বেশি মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৩ সালে এক বছরে রেকর্ড ৮ লাখ ৫৩ হাজার সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া জাতীয় গ্রিডের দ্রুত সম্প্রসারণ শুরু হলে সোলারের চাহিদা কমতে থাকে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দেশজুড়ে গ্রিড সম্প্রসারণের ফলে সোলার হোম সিস্টেমের প্রাসঙ্গিকতা দ্রুত কমে যায়। এর চূড়ান্ত প্রভাব দেখা যায় ২০১৮ সালে, যখন বার্ষিক নতুন সোলার স্থাপন ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে মাত্র ৩ হাজার ৪৫৫টিতে নেমে আসে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST