পৃথিবীতে বছরে কয়েক লাখ ভূমিকম্প ঘটে। বেশির ভাগই এত ছোট যে মানুষ টেরই পায় না, তবে বড় ভূমিকম্পগুলো পৃথিবীর ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বিবর্তনে বিস্ময়কর প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমিকম্প শুধু মাটির কম্পনেই সীমাবদ্ধ নয়-এটি পৃথিবীর ঘূর্ণনগতি, প্রাণীর আচরণ, পর্বতের উচ্চতা, এমনকি শহরের অবস্থান পর্যন্ত বদলে দিতে পারে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভে জানায়, পৃথিবীতে মুহূর্তের ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্প হয়। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৭টি ভূমিকম্পের মাত্রা ৭-এর উপরে থাকে, আর ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয় গড়ে বছরে একবার।গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমিকম্পের কারণে দিনের দৈর্ঘ্যও কমবেশি হতে পারে। কারণ বেশি মাত্রার ভূমিকম্পে পৃথিবীর ভরের পরিবর্তন হয়। যার ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি সামান্য বেড়ে যায়। এতেই কমে যায় দিনের দৈর্ঘ্য। যেমন-২০০৯ সালে জাপানের উত্তর-পূর্বে হওয়া ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য ১.৮ মাইক্রোসেকেন্ড কমেছিল।
ভূমিকম্পের আরেক বিস্ময়কর প্রভাব দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সান অ্যানড্রেয়াস ফল্টে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সান ফ্রান্সিসকো শহর প্রতিবছর প্রায় দুই ইঞ্চি করে দক্ষিণে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে সরে যাচ্ছে। এই গতি অব্যাহত থাকলে কয়েক লাখ বছর পরে দুই শহরই এক হয়ে মিশে যাবে।শক্তিশালী ভূমিকম্প পর্বতের উচ্চতাও পরিবর্তন করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালের ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় এক ইঞ্চি কমে গিয়েছিল বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের আগে প্রাণীর আচরণও নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ছোট ছোট কম্পন পশুপাখি আগে থেকেই অনুভব করতে পারে। ভূমিকম্পের ফলে যে শুধু ব্যাঙের আচরণেই পরিবর্তন ঘটে তা নয়, ইন্দোনেশিয়া এবং ২০০৪ সালে সুনামির আগে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন যে তারা অনেক পশু পাখিকে দেখেছেন উঁচু এলাকার দিকে ছুটে যেতে। ২০১৩ সালে জার্মান গবেষকরা দেখিয়েছেন-ফল্টলাইনের কাছে থাকা লাল কাঠপিপড়াদের আচরণ ভূমিকম্পের আগে তাদের দৈনন্দিন জীবন কিভাবে বদলে যায়।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST